বাংলাদেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,৩৯০
বাংলাদেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু এবং নতুন করে ১,৩৯০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঢাকা: দেশে হামের প্রকোপে মৃত্যু কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৯০ জনের শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন মোট ১ হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের। আর ১ হাজার ৩৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মারা গেছেন একজন করে। বাকি দুজনের মৃত্যুর স্থান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৮০ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯৩ জনে।
একই সময়ে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১০ জন। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ২০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৭৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে রোগীদের বয়সভিত্তিক তথ্য দেওয়া হয় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো আলাদাভাবে নথিবদ্ধ করা হয়। ফলে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সবাইকে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয় না।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। মার্চে পরিস্থিতির অবনতি হলে টিকাদান ও চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেয় সরকার। এপ্রিল থেকে শুরু হয় গণটিকাদান কর্মসূচি।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি এবং চলতি বছরের গণটিকাদান কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শিশু বাদ পড়ার কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়েছে। তাদের মতে, এসব ঘাটতি বর্তমান প্রাদুর্ভাবের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য হামের বর্তমান প্রকোপের একক কারণ হিসেবে কোনো একটি বিষয়কে দায়ী করা হয়নি।

















