পুলিশে ১৪ হাজার নিয়োগের পরিকল্পনা, এসআই পদে থাকছে না পদোন্নতির কোটা

বাংলাদেশ পুলিশে নতুন করে ১৪ হাজার জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) পদে শতভাগ সরাসরি নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান প্রক্রিয়ায় ৬ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ এবং নতুন করে আরও ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে বাহিনীতে প্রায় ২ হাজার কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। চলমান নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব শূন্য পদ পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) কামারুন মুনিরা।
তিনি জানান, চলমান নিয়োগে ৬ হাজার টিআরসি নেওয়া হবে। এই নিয়োগ শেষ হলে প্রস্তাবিত নতুন ১০ হাজার পদের মধ্যে আরও ৬ হাজার পদে নিয়োগের সুযোগ থাকবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে এসব পদ পূরণে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
গত ৯ অক্টোবর সারা দেশে টিআরসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পুলিশ। অনলাইনে আবেদন শুরু হয় ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টায় এবং শেষ হয় ৩০ অক্টোবর বিকেল ৫টায়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাই, শারীরিক মাপ, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, লিখিত ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, মেধা, যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। আবেদনপত্রে বা নিয়োগের যেকোনো পর্যায়ে মিথ্যা কিংবা জাল তথ্য পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
অন্যদিকে, ৪ হাজার এসআই পদে সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
এ নিয়োগের পথ সুগম করতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে। আগে এসআই পদের অর্ধেক সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে শতভাগ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
সচিব কমিটির সভায় এসআই ও কনস্টেবল মিলিয়ে পুলিশের জন্য মোট ১৪ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে নিয়োগের জন্য বিশেষ বিসিএস আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।





















