সখীপুরে আউয়াল শফীর মৃত্যু: সন্দেহভাজন শাকিল থানায়

টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বাস্থ্য সহকারী আউয়াল শফীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের খোঁজা সন্দেহভাজন শাকিল থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
সখীপুরে আউয়াল শফীর মৃত্যু: সন্দেহভাজন শাকিল থানায়
সন্দেহভাজন শাকিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল

স্বাস্থ্য সহকারী আউয়াল শফীর মৃত্যুর ২১ দিন পর পুলিশের খোঁজা সেই যুবক শাকিল (১৮) সখীপুর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে স্বজনেরা তাঁকে থানায় নিয়ে যান। তবে তাঁর থানায় যাওয়ার বিষয়টি পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

শাকিলের পরিবারের দাবি, আউয়াল শফীর মৃত্যু কোনো হত্যাকাণ্ড নয়; সড়কে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার পর ভয় পেয়ে শাকিল ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। অন্যদিকে, নিহতের পরিবার শুরু থেকেই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে। মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে শাকিলকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছিল পুলিশ।

সিসিটিভির সূত্র ধরে খোঁজ

২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সখীপুর উপজেলার নলুয়া-বাসাইল সড়কের বাছেত খান উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ থেকে আউয়াল শফীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী ছিলেন।

স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহের পাশে মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে। মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে দ্রুতগতির কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করেছিল।

তবে আউয়াল শফীর স্বজনেরা তাঁর শরীরের আঘাতের ধরন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ৩ সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী তানিয়া আক্তার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ওই সময় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজন চালক ও যাত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

একপর্যায়ে ৮ সেপ্টেম্বর সিসিটিভি ফুটেজ থেকে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের ছবি সংগ্রহ করে পুলিশ। তাঁর পরিচয় ও অবস্থান জানাতে অনুরোধের পাশাপাশি তথ্যদাতাকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

শাকিলের দাবি: ভয়েই চলে যান

শাকিলের খালু শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, শাকিল জানিয়েছেন—ঘটনার দিন তিনি মোটরসাইকেলে নলুয়া থেকে বাসাইলের দিকে যাচ্ছিলেন। সামনে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। বিপরীত দিক থেকে আসা আউয়াল শফীর মোটরসাইকেল সিএনজির সঙ্গে ঘেঁষা লেগে তিনি সড়কে পড়ে যান।

শাকিলের মোটরসাইকেলও পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজির সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং তিনি সড়কের পাশে ছিটকে পড়েন বলে তাঁর দাবি।

শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, পরে শাকিল আউয়াল শফীকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিএনজিচালকের পরামর্শে গণপিটুনির আশঙ্কায় তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে যান।

“ঘটনাটি মূলত দুর্ঘটনা। ন্যায়বিচারের আশায় শাকিলকে আমরা পুলিশের কাছে দিয়ে গেলাম,” বলেন শফিকুল ইসলাম।

পুলিশের বক্তব্য মেলেনি

শাকিলের থানায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছুই বলতে পারছি না। পরিবারের লোকজন আপনাদের কী তথ্য দিয়েছে, সেটা তাঁদের বিষয়। পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু বলার থাকলে প্রয়োজনে তা আনুষ্ঠানিকভাবে আপনাদের জানানো হবে।”

ফলে শাকিলের আত্মসমর্পণ, তাঁর দেওয়া ঘটনার বর্ণনা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।


২১ দিন পর থানায়

২ সেপ্টেম্বর — আউয়াল শফীর মরদেহ উদ্ধার
৩ সেপ্টেম্বর — হত্যা মামলা
৮ সেপ্টেম্বর — সন্দেহভাজন যুবকের ছবি প্রকাশ
২৩ সেপ্টেম্বর — শাকিলকে থানায় নিয়ে যায় পরিবার

নিহত আউয়াল শফী

বয়স: ৪৫ বছর
পেশা: স্বাস্থ্য সহকারী
কর্মস্থল: সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বাড়ি: বোয়ালী গ্রাম, সখীপুর

তদন্তের বর্তমান অবস্থান

  • সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে শাকিলকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ।
  • তাঁর সন্ধানে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
  • শাকিলের পরিবার ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করছে।
  • পুলিশ এখনো তাঁর থানায় আসার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top