টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ কারাগারে, তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

গাজীপুর, ২৫ অক্টোবর — গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি আদালতে বিচারকের কাছে জবানবন্দিও দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে শিশুটির জবানবন্দি নেওয়া হয়। একই দিন মামলায় মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে, অন্যটি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনায়। প্রাথমিক তদন্তে উভয় ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ওসি। তবে চূড়ান্ত তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ঘটনা কাউকে জানালে মারধরের হুমকি দেওয়ায় শিশুটি আতঙ্কে টানা তিন দিন মাদ্রাসায় যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসায় সে বিষয়টি বাবা-মাকে জানায়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে উপাধ্যক্ষের কাছে জবাব চান। এ সময় সেখানে লোকজন জড়ো হন এবং একপর্যায়ে শিশুটির বাবা ও অন্যরা শিক্ষককে মারধর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগে উঠে এসেছে। মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকেরা তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলায় শিশুটির বাবা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর এবং প্রায় ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর হোসেনের দাবি, এক অভিভাবকের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলা চালায়, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর করে এবং টাকা লুট করে। তার অভিযোগ, শিশুটির বাবা সেখানে জনতার হামলার পরিস্থিতি তৈরি করেন।
তবে শুক্রবার গভীর রাতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নয়। টাকা লুটের অভিযোগও নাকচ করে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত চলছে।

















