কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তন চান? সিআইএর সঙ্গে কাজের আহ্বান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রত্যাশীদের মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গে গোপনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কিউবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।
রুবিও কিউবার সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও জীবনযাত্রা নিয়ে জনঅসন্তোষের কথা উল্লেখ করেন। এসব পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সিআইএর সঙ্গে গোপন অংশীদারত্বের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার সুযোগ নিতে তিনি দেশটির নাগরিকদের উৎসাহিত করেন।
রুবিওর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ দে কোসিও যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ওয়াশিংটন এখন প্রকাশ্যেই সিআইএর জন্য লোক নিয়োগের চেষ্টা করছে। সংস্থাটির ভেতরে হতাশা বা সংকট তৈরি হয়েছে বলেই হয়তো নিজেদের সেবা এভাবে প্রচার করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটিতে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি চাপ জোরদারের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে হাভানা দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।
গত মাসে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সি-স্প্যানের এক অনুষ্ঠানে ফার্নান্দেজ দে কোসিও বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগ হবে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ।
এর আগে সিআইএ এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্যদাতাদের নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাসে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়।
জ্বালানি সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে কিউবা বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলসংক্রান্ত অবরোধ পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা তেল অবরোধের নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন। মানবাধিকার কর্মীরাও মার্কিন প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর কিউবার ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বেড়েছে।



















