জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তি চান তারেক রহমান

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্যমাত্রা, সুলভ অর্থায়ন, জলবায়ু প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তি চান তারেক রহমান
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টি শিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে / ছবি: পিএমও

নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশেরও কম হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষ্য অনুযায়ী, শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে, যা জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান। চলতি বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩.১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে বড় ধরনের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি, সার্কুলার অর্থনীতি ও জাতীয় কার্বন বাজার উন্নয়নের উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি।

জলবায়ু মোকাবিলায় পাঁচটি অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তারেক বলেন, বৈশ্বিক নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে অভিযোজন অর্থায়ন দেওয়া, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল নিয়মিত পুনর্ভরণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ ছাড়া এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

“আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি,” প্রধানমন্ত্রী বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top