জাতিসংঘে ট্রাম্প: যুদ্ধে বিজয়ীরই অধিকার ‘লুটের মালে’, ইরান নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধে বিজয়ীই যুদ্ধের ‘লুটের মাল’ পাবে। ইরান, ভেনেজুয়েলা ও সামরিক শক্তি নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘে ট্রাম্প: যুদ্ধে বিজয়ীরই অধিকার ‘লুটের মালে’, ইরান নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন তিনি ছবি: এএফপি

নিউইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। ভেনেজুয়েলাইরান প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে সামরিক পদক্ষেপ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সম্পদ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও উঠে আসে।

ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধে যে বিজয়ী, লুটের মালামাল সে-ই পাবে—এটাই নিয়ম।”

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর দেশটির তেলসম্পদ নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে একসঙ্গে ধরলে বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি তেল তাদের হাতে রয়েছে।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সামনে দেশটির সঙ্গে চুক্তি করার অথবা ইসলামিক রিপাবলিককে “annihilate” করার বিকল্প রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রয়োজন হলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন শক্তি প্রয়োগ করবে।

ট্রাম্পের বক্তব্য জাতিসংঘ সনদের শক্তি প্রয়োগসংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে প্রশ্ন তুলতে পারে। সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদে অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা তার হুমকি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর স্বীকৃত ব্যতিক্রমের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার।

ট্রাম্পের ভাষণে অবশ্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের “জাতীয় স্বার্থ”কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেন।

ভাষণে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেরও সমালোচনা করেন এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আদালত থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। আদালতটি জাতিসংঘের কোনো অঙ্গ নয়; ১৯৯৮ সালের রোম সংবিধির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।

ট্রাম্প বৈশ্বিক কার্বন শুল্ক, আন্তর্জাতিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন নীতি নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য তাঁর ২০১৭ সালের জাতিসংঘ ভাষণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়াকে “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করার হুমকি দিয়েছিলেন।

এবারের ভাষণে ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণের সামগ্রিক বক্তব্যে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ, সামরিক সক্ষমতা এবং একতরফা পদক্ষেপের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top