বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার পর অফলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ওয়েবসাইটটি অকার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগ কাজ করছে। তবে ওয়েবসাইটটি কখন পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাননি তিনি।
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি দেখা যাচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, সেবাটি বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রয়েছে এবং শিগগিরই আবার চালু করা হবে।
ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি (PHP)-তে সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ (Calif) ও উইজ (Wiz) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় এসব ত্রুটি শনাক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ত্রুটিগুলোর সমাধানে নিরাপত্তা প্যাচ প্রকাশ করা হলেও, সব আক্রান্ত সিস্টেমে সেগুলো প্রয়োগের আগেই দুর্বলতাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসে।
সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে বুধবার নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন সংস্থা তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। একই ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ এবং জাপানের নোমুরা ও মিতসুবিশি ইউএফজে ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানও।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, এসব দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা কয়েক হাজার থেকে বেড়ে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেনসিসের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত করা ২৬ লাখ সার্ভারের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হয়নি।
এর আগেও বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেয়। ওই ঘটনার পর তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন।
এ ছাড়া, ২০২৩ সালে সম্ভাব্য সাইবার হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণ কিছু ওয়েবভিত্তিক সেবা ৩৬ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রেখেছিল।













