রাশিয়ার ওপর শুল্ক-নিষেধাজ্ঞায় ট্রাম্পের ইউটার্ন, কার্যকরের আগেই স্থগিত
রাশিয়ার ওপর নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের এক দিন আগে তা স্থগিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিদ্ধান্তটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা।

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের এক দিন আগে তা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বা তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
গত মাসে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিধান রেখে একটি আইনে সই করেছিলেন ট্রাম্প। ওই আইনে রাশিয়ার পণ্যে শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারত। এ ছাড়া আইন কার্যকরের ৩০ দিন পরও যেসব দেশ জেনেশুনে রুশ জ্বালানি কিনত এবং রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করত, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল।
আইনটির অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন দক্ষিণ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ার। এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করছেন এবং ইউক্রেনের অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্ত রাশিয়ার আগ্রাসনের শাস্তি দিতে কংগ্রেসের নেওয়া উদ্যোগকেও উপেক্ষা করেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানের পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন। এমনকি ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারত। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোক্তারা এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছেন।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তি নিয়েও ট্রাম্প সমালোচনার মুখে পড়েন। চুক্তির আওতায় বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহের বিনিময়ে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছিল তাঁর প্রশাসন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচকদের মধ্যে রিপাবলিকান সিনেটররাও ছিলেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
মূল সংবাদসূত্র — Reuters: Trump waives key Russia-related sanctions, tariffs before they take effect under new law
















