সাইবার প্রতারণা: কক্সবাজারে ১,৯৩৮ আইফোন জব্দ, ৬ বিদেশি গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার অভিযোগ | ২৫০–৩০০ চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক জড়িত থাকতে পারেন: পুলিশ

সাইবার প্রতারণা: কক্সবাজারে ১,৯৩৮ আইফোন জব্দ, ৬ বিদেশি গ্রেপ্তার
সাইবার প্রতারণা: সাইবার অপরাধের অভিযোগে কক্সবাজারে আটক চীনা নাগরিকরা /  ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারে অনলাইন জুয়া ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ চীনা ও এক তাইওয়ানের নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি পুরোনো মডেলের আইফোনসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার শহরের হোটেল সি প্যালেসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহিদুর রহমান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তাইওয়ানের নাগরিক ওয়েই চিং ওয়েন এবং চীনের নাগরিক শু ইয়াংফান, ইয়ান চ্যাংশেং, শু হাইজিয়াং, উ জিয়ানশিয়ং ও ঝাং ঝেমিং।

পুলিশ জানায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু থানায় করা একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানটি চালানো হয়। গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিককে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

রিসোর্টে ‘কম্পিউটার ল্যাব’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক কক্সবাজারের বিভিন্ন আবাসিক স্থাপনা ও রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন।

তারা হিমছড়ির মেরিনা বিচ ভিলাস রিসোর্ট, ড্রিম হলিডে রিসোর্ট, অর্কিড ব্লু এবং উখিয়ার ইনানী এলাকার এলিয়াস ব্রাদার্স নামের একটি আবাসিক ভবনে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, মেরিনা বিচ ভিলাস রিসোর্টের একটি বড় হলকে কম্পিউটার ল্যাবে পরিণত করা হয়েছিল। সেখানে গোপনে কার্যক্রম চালাতে ছয়টি শব্দনিরোধক কক্ষও তৈরি করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট ওই রিসোর্টে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখানে অবস্থানকারীরা রিসোর্টের পেছনের খোলা সমুদ্রসৈকত দিয়ে পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে সেখান থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি পুরোনো মডেলের আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কিবোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, একটি আইপিএস, ২৪টি কানেকশন বোর্ডসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ভুয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার অভিযোগ

পুলিশের ভাষ্য, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রাথমিক তদন্তে ওই চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিকদের একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন আর্থিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কথিত প্রতারণায় ভুয়া বাজার বিশ্লেষণ ও নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হতো। পরে ক্লোন বা ভুয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টাকা জমা নেওয়া এবং তা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করার সুপারিশ করেছে তদন্ত দল।

‘নির্মাণ কোম্পানি’র অস্তিত্বের প্রমাণ মেলেনি

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ঝান ইউয়ান ফান নামে এক চীনা নাগরিক ‘বাবর আলী’ নাম ব্যবহার করে রিসোর্টগুলো ভাড়া নিয়েছিলেন।

পাই লেডিং রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে উ ঝিপিং নিজেকে জিন শিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রক্রিয়ায় থাকার কথা পুলিশকে জানিয়েছিলেন।

তবে তদন্তে ওই নামে কোনো কোম্পানি প্রতিষ্ঠার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও বলেছে, বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধতা, ভিসা এবং তাদের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিদেশি নাগরিকেরা সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। তদন্ত অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন সময়ে ভিসা অন অ্যারাইভাল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

আদালতে পাঠানো হয়েছে

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক জানান, গ্রেপ্তার ছয়জনকে শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top