কাপাসিয়ায় অটোরিকশা চালকের মরদেহ, খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

কাপাসিয়ায় অটোরিকশা চালকের মরদেহ, খবর শুনে মায়ের মৃত্যু
কাপাসিয়ায় অটোরিকশা চালকের মরদেহ, খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

প্রতিনিধি: শ্রীপুর, গাজীপুর :- গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা চালক আতাউর রহমানের (৫৫) মরদেহ উদ্ধারের খবর শুনে অসুস্থ হয়ে তাঁর মা জহুরা খাতুনের (৭৫) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আতাউর রহমান উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আতাউর রহমান। এরপর রাতে মির্জানগর এলাকায় একটি সড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সে সময় তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আতাউর রহমানের বলে শনাক্ত করেন। তাঁর মরদেহ শনাক্ত হওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছালে মা জহুরা খাতুন গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

জহুরা খাতুন উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর গ্রামের আবদুল কাদিরের স্ত্রী। স্বজনেরা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আকস্মিকভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।

আতাউর রহমানের মামাতো ভাই আকরাম হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিবারের সদস্যরা আতাউরের মরদেহ শনাক্ত করেন। এ খবর জানার পর জহুরা খাতুন চিৎকার করে মাটিতে পড়ে যান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আতাউর রহমানকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আকরাম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং পুলিশের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথা বলে তাঁদের এমন ধারণা হয়েছে। তবে আতাউরকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর অটোরিকশাটি কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে মির্জানগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের একটি নির্জন সড়কে আতাউরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পরে তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে কাপাসিয়ার আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং মরদেহ উদ্ধার করেন।

মরদেহ উদ্ধারের সময় আতাউরের পরিচয় জানা যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আতাউর রহমানের পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের স্বজনেরা জানান, তিনি ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অটোরিকশা চালিয়ে তিনি স্ত্রী-সন্তান ও মায়ের সংসার চালাতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে।

আতাউরের মৃত্যুর ঘটনায় একদিকে যেমন পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, অন্যদিকে একই সময়ে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আরও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। একই রাতে মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায়ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

কাপাসিয়ার আড়াল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম বলেন, আতাউর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর আরও স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আতাউর রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নির্জন সড়কে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।

আতাউর রহমানের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি স্বজনেরা স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই ঘটনায় পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজনেরা এখন শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

ঘটনার সারাংশ: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশাচালক আতাউর রহমানের মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহ শনাক্ত হওয়ার খবর শুনে তাঁর মা জহুরা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। পুলিশ আতাউরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। পরিবারের ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে; তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top