এনসিপি ঢাকা সিটি নির্বাচন: জোটের সমীকরণে বদল, ঢাকার দুই সিটে নাসীরুদ্দীন-আসিফকে নিয়ে এনসিপির নতুন ছক
ঢাকা: ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা না হওয়ায় আসন্ন ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কৌশল পরিবর্তন করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এবার স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দলের প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।
দলের তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ দুজনই নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেছেন। এতে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সম্ভাবনা খুবই বেশি। জনগণ চাইলে এবং দল সমর্থন দিলে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”
এর আগে গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল এনসিপি। পরে ১ মে একই পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী।
এনসিপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আসিফ মাহমুদের নাম ঘোষণার পর জামায়াত সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করায় দক্ষিণে প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
আরেক নেতা বলেন, জামায়াত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীকে ও আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। তবে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরে সমঝোতার সুযোগ রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল।
“এ কারণেই ঢাকা দক্ষিণে
সামনে আনা হচ্ছে,” বলেন ওই নেতা।
তিনি আরও বলেন, ডানপন্থী রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থন রয়েছে। নির্বাচনে সেই সমর্থনকে কাজে লাগাতে চায় এনসিপি। শিগগিরই প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আসিফ মাহমুদ এর আগে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। দলটি ওই নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।
দলীয় সূত্র বলছে, জোটের সমঝোতার কারণে ওই সময় আসিফ মাহমুদের প্রার্থী হওয়া সম্ভব হয়নি। এবারও ঢাকা দক্ষিণ নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় তাকে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে জামায়াত, এনসিপি ও জোটের অন্যান্য শরিক দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে জোট নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জাতীয় রাজনীতিতে তাদের বিরোধী ঐক্যে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জোটের শরিক দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে আগেই একমত হয়েছে।
“সেই অনুযায়ী, প্রত্যেক শরিক দল নিজ নিজভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। ফলে কোন দল কাকে প্রার্থী করবে, সে বিষয়ে প্রত্যেক দলই সম্পূর্ণ স্বাধীন,” বলেন তিনি।



