শিক্ষক থেকে বিশ্বসুন্দরী, মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ জিতলেন জোহেইরি মোলা ডমিনগেজ

নহা ট্রাং, ভিয়েতনাম: মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়েছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের ২৪ বছর বয়সী জোহেইরি মোলা ডমিনগেজ। প্রতিযোগিতার ৭৩তম আসরে ১১০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। চূড়ান্ত পর্বে সেরার মুকুট ওঠে মোলা ডমিনগেজের মাথায়।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ডোমিনিকান রিপাবলিক দ্বিতীয়বারের মতো মিস ওয়ার্ল্ডের শিরোপা পেল। দেশটির হয়ে প্রথমবার এই মুকুট জিতেছিলেন মারিয়াসেলা আলভারেজ। ১৯৮২ সালে তার সেই জয়ের ৪৪ বছর পর আবারও দেশটির ঘরে ফিরল মর্যাদাপূর্ণ এই শিরোপা।
মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চের বাইরে মোলা ডমিনগেজ একজন শিক্ষক, সাংবাদিক ও পেশাদার মডেল হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ইউনিভার্সিডাদ ইবেরোআমেরিকানা থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।
বর্তমানে তিনি সাহিত্য ও সামাজিক বিজ্ঞান পড়ান। পাশাপাশি ইউনিভিশন নিউইয়র্কের Ventana a Quisqueya অনুষ্ঠানে সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের জন্য সামাজিক উদ্যোগও পরিচালনা করছেন মোলা ডমিনগেজ। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন Voices of Tomorrow নামের একটি প্রকল্প, যার লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের শিশুদের ইংরেজি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা।
মোলা ডমিনগেজ মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি শেখার সুযোগ শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। নিজের শিক্ষকতার কাজেও তিনি ইংরেজিতে সাহিত্য ও সামাজিক বিজ্ঞান পড়ান।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতায় তার এই উদ্যোগ জায়গা করে নেয় Beauty With a Purpose বিভাগে। প্রতিযোগিতার এই অংশে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ তুলে ধরেন।
এবার Beauty With a Purpose-এ প্রতিযোগীদের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ২৪টি প্রকল্প মহাদেশীয় ফাইনালে জায়গা করে নেয়। শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক পুরস্কার জেতেন মালয়েশিয়ার তানুসিয়া চেট্টি।

মিস ওয়ার্ল্ডের মূল প্রতিযোগিতাতেও মোলা ডমিনগেজের যাত্রা ছিল উল্লেখযোগ্য। আমেরিকাস অ্যান্ড ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের Top Model চ্যালেঞ্জে জয় পান তিনি। সেই সাফল্যের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন টপ ৪০-এ জায়গা।
পরবর্তী ধাপগুলো পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর মুকুট নিজের করে নেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। তার জয় শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপা নয়, শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত একজন প্রতিযোগীর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও এনে দিয়েছে।



