সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন এ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পুলিশের, জোরদার নিরাপত্তা

সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন এ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পুলিশের, জোরদার নিরাপত্তা
সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন এ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পুলিশের – ছবি: নিউজ24বাজ

সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে উসকানি, অনুপ্রবেশ এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সোমবার বিকেলে সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন শেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও উসকানিদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হেলমেটধারীদের শনাক্তে তদন্ত

আন্দোলনের সময় হেলমেট, মাস্ক ও কাপড়ে মুখ ঢেকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শামীমা পারভীনের অভিযোগ, শ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশ করে ভাঙচুর ও সহিংসতা ঘটাচ্ছেন। তার ভাষ্য, প্রকৃত শ্রমিকেরা নিজেদের কর্মস্থলে ভাঙচুর চালাবেন না। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়নি।

কারখানার নিরাপত্তা জোরদার

পুলিশ সুপার জানান, সোমবার সকাল থেকে সাভার, আশুলিয়া ও ইপিজেড এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ এবং পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তার দাবি, পুলিশের তৎপরতার কারণে সোমবার কোনো কারখানায় হামলার ঘটনা ঘটেনি। যেসব কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সিদ্ধান্তে ছুটি ঘোষণা করেছে। নিরাপত্তার অভাবে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও জানান তিনি।

কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে শামীমা পারভীন বলেন, শ্রমিকদের জীবিকা ও পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পোশাকশিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কাজে ফিরতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের।

গ্রেপ্তারের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়

আন্দোলন ঘিরে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেনি পুলিশ। শামীমা পারভীন বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং সাভার ও আশুলিয়া থানা পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান চালাচ্ছে। সব ইউনিটের তথ্য সমন্বয়ের পর গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা জানানো সম্ভব হবে।

বড় পরিকল্পনার দাবি পুলিশের

শিল্পাঞ্চলে আরও বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার। তার ভাষ্য, আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ও গ্রেপ্তার চালানোয় সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি মহলের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে বলে দাবি করলেও তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

অন্যদিকে, সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার প্রসঙ্গে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

মজুরি বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা উসকানিদাতাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তবে শ্রমিকদের দাবির বর্তমান অবস্থা, আন্দোলনকারীদের বক্তব্য এবং পুলিশের ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন সমর্থনে কোনো তথ্য এ বক্তব্যে তুলে ধরা হয়নি।


Leave a Comment