গুলশান হত্যাচেষ্টা মামলায় নাসা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার কে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

গুলশান হত্যাচেষ্টা মামলায় নাসা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার কে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। আজ সোমবার ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে

ঢাকা — জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর গুলশানে ভ্যানচালক আবদুল জব্বার আলীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক আবদুস সালাম নজরুল ইসলাম মজুমদারকে আদালতে হাজির করে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ভুক্তভোগী জব্বার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার জন্য আসামিদের নির্দেশ দেওয়া এবং এ ঘটনায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

নজরুল ইসলাম মজুমদারের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে।

পরদিন যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা ইমন হোসেন গাজী হত্যা মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট পুলিশ তাঁকে গুলশান থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৪ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভ্যানচালক গুলিবিদ্ধ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলশানের শাহজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন।

এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন।

ঘটনার কয়েক মাস পর, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জব্বার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা আইন অনুযায়ী নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।


Leave a Comment