কলকাতায় চিকিৎসা: কলকাতায় হোটেল বন্ধের ধাক্কা, আবাসন সংকটে বাংলাদেশি রোগীরা

অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা অভিযানে কমেছে সাশ্রয়ী হোটেল; কলকাতা যাওয়ার আগে বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের

কলকাতায় চিকিৎসা: কলকাতায় হোটেল বন্ধের ধাক্কা, আবাসন সংকটে বাংলাদেশি রোগীরা
কলকাতায় চিকিৎসা: ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ও দমকল কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা প্রতিনিধি: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতাজুড়ে হোটেল ও গেস্টহাউসে চলমান নিরাপত্তা অভিযানে একের পর এক আবাসন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

বিশেষ করে কম খরচে হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কেউ কেউ লাগেজ নিয়ে ফুটপাতে রাত কাটাতেও বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে কলকাতায় চিকিৎসা জন্য যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেটি চালু আছে কি না এবং সেখানে অবস্থানের উপযোগী ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন, কলকাতা।

দীর্ঘদিন ধরে নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকা বাংলাদেশি রোগী, তাঁদের স্বজন, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের কাছে জনপ্রিয়। এসব এলাকায় তুলনামূলক কম দামে হোটেল পাওয়া যেত। পাশাপাশি হাসপাতাল, ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ ও যাতায়াতের সুবিধাও ছিল।

তবে সাম্প্রতিক হোটেল বন্ধের কারণে অনেক পরিবারকে এখন শহরের দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। আবার কোথাও থাকতে হলে আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

ক্যানসার রোগীদের ভোগান্তি বেশি

আবাসন সংকট সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে কলকাতায় যাওয়া রোগীদের। বিশেষ করে ক্যানসার রোগীদের কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াতের প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশ থেকে সীমিত আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে চিকিৎসার জন্য যাওয়া এসব রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য হাসপাতালের কাছাকাছি কম খরচে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া অনেকটা অপরিহার্য।

মুকুন্দপুরসহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতাল কেন্দ্রিক এলাকাতেও আবাসন নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এসব এলাকার কিছু হোটেল ও আবাসিক স্থাপনাও অগ্নিনিরাপত্তা ও লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে রয়েছে।

শুধু বাংলাদেশি নাগরিক নন, পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত জেলা থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা দরিদ্র রোগী ও তাঁদের স্বজনেরাও একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন।

যে অগ্নিকাণ্ডের পর অভিযান

গত ১৯ আগস্ট ভোরে নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল।

আগুনে আটকে পড়া বেশির ভাগ মানুষ বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান বলে জানা যায়।

এ ঘটনার পর কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি শুরু করে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, দমকল বিভাগ ও পুলিশ।

অভিযানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমনপথ, ভবনের অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি হোটেল ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ পেয়েছে।

২২ আগস্ট পর্যন্ত নিউ মার্কেট এলাকায় অন্তত ৫২টি হোটেল বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে অভিযান আরও বিস্তৃত হলে কলকাতাজুড়ে শতাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যায় বা বন্ধের মুখে পড়ে।

নিরাপত্তা জরুরি, তবে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি

শিখা ইন-এর মতো দুর্ঘটনার পর অনিরাপদ হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে পর্যাপ্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

কিছু হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিপাকে পড়া রোগী ও তাঁদের স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করছে বলে জানা গেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এ উদ্যোগ এখনো সীমিত।

চিকিৎসার প্রয়োজনে কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি রোগীদের জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আগেভাগে আবাসন নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top