৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ঢাকা, রোববার: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর এবং ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ৩০০ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুরে সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে প্রায় ছয় ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বেলা ৩টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মিরপুরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ঢাকা ও গাজীপুরের বিক্ষোভে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা যুক্ত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজমুল ইসলামকে একটি মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিরপুর থেকে একই সংগঠনগুলোর আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে রোববার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার বোর্ড গঠনের কথা আগেই জানানো হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি আন্দোলনকারীদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পোশাকশিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন শ্রমমন্ত্রী। চলমান পরিস্থিতির কারণে তিনি তাঁর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরও বাতিল করেন।





















