এলিজাবেথ হোমস এর প্রামাণ্যচিত্রের চমক, মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই আয় দেড় কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বক্স অফিসে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছে এলিজাবেথ হোমসকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’। ২০০৪ সালে ‘ফারেনহাইট ৯/১১’ মুক্তির পর উত্তর আমেরিকায় কোনো প্রামাণ্যচিত্রের এটিই সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয় বলে জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ২৪।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মাত্র ৮৫৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে ছবিটি এ আয় করেছে। সপ্তাহান্তে এর দুই হাজারের বেশি প্রদর্শনীতে সব টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে এ২৪।
নাথান ফিল্ডার ও ল্যান্স ওপেনহাইম পরিচালিত প্রায় তিন ঘণ্টার এই প্রামাণ্যচিত্রের বিষয় থেরানোসের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এলিজাবেথ হোমস। রক্ত পরীক্ষার প্রযুক্তি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত এই উদ্যোক্তার জীবনের শেষ কারাবন্দি হওয়ার আগের সময়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি।
এর আগে মাইকেল মুরের ‘ফারেনহাইট ৯/১১’ ২০০৪ সালে উত্তর আমেরিকার ৮৬৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে প্রথম সপ্তাহান্তে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছিল। সে হিসাবে দুই দশকের বেশি সময় পর কোনো প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী আয় আবারও এই পর্যায়ে পৌঁছাল।
এক হাজারের কম প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবির মধ্যে ২০০৬ সালে ‘বোরাট’-এর ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের উদ্বোধনী আয়ের পরও ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’-এর এই সাফল্য উল্লেখযোগ্য। তবে এসব হিসাব মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে করা হয়নি এবং কনসার্টভিত্তিক চলচ্চিত্রও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
তরুণ দর্শকদের সাড়া
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটির উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের দর্শকদের ৭০ শতাংশের বেশি ছিলেন ৩৫ বছরের কম বয়সী। সমালোচকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে ছবিটি। রটেন টমেটোজে এর স্কোর ৯৯ শতাংশ এবং মেটাক্রিটিকে ১০০-এর মধ্যে ৯৯। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে পোস্টট্র্যাকের জরিপেও ৯১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ছবিটি দেখার জন্য জোরালো সুপারিশ করেছেন।
প্রায় তিন বছর ধরে গোপনে নির্মাণ করা হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি। নির্মাণের সময় নাথান ফিল্ডার এক মাসের বেশি সময় হোমস, তাঁর পরিবার, দুই সন্তান এবং সঙ্গী বিলি ইভান্সের সঙ্গে কাটান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবিটির নির্মাণ ব্যয় ৭০ লাখ ডলারের কম এবং বিপণন ব্যয় এক কোটি ডলারের নিচে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো মুক্তি পায়নি ছবিটি। অস্ট্রেলিয়ায় ১২ নভেম্বর এবং যুক্তরাজ্যে ২০ নভেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষক পল ডারগারাবেডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টার একটি প্রামাণ্যচিত্র এত বড় ব্যবসা করবে—এমনটা অনেকে ধারণা করেননি। তাঁর মতে, ফিল্ডারের জনপ্রিয়তা এবং হোমসের ঘটনাবহুল জীবন দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
অন্য ছবির বক্স অফিস
এদিকে বিশ্বব্যাপী ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের উদ্বোধনী আয় নিয়ে বক্স অফিসে শীর্ষে রয়েছে ‘স্ট্রিট ফাইটার’। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ২ কোটি ডলার। ছবিটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার বলে জানা গেছে; বিপণন ব্যয় এর বাইরে।
অন্যদিকে অস্টিন আব্রামস ও জশ ব্রোলিন অভিনীত ‘হোয়েলফল’ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ৮০ লাখ ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ৯৫ লাখ ডলার আয় করেছে। সব মিলিয়ে ছবিটির বিশ্বব্যাপী উদ্বোধনী আয় ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। প্রায় ৬ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত ছবিটি উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
অ্যালেক্স গিবনির ইলন মাস্ককে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মাস্ক’ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৪৭২টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে আয় করেছে ৩ লাখ ৬ হাজার ৭০২ ডলার। ছবিটির পরিবেশক ব্লিকার স্ট্রিট জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক তাদের বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্সসহ অন্যান্য বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রচারে সমস্যার মুখে পড়েছে ছবিটি।
এ ছাড়া স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘লা বোলা নেগ্রা’ চারটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে আয় করেছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ ডলার। নেটফ্লিক্সের এই ছবিটি মুক্তির পর ৪৭ দিন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে, এরপর স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটিতে দেখা যাবে।
রেন্ট্রাকের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় গত সপ্তাহান্তে সিনেমার টিকিট বিক্রি থেকে মোট আয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ১৬ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। চলতি বছরের এ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস আয় দাঁড়িয়েছে ৮২০ কোটি ডলারে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।





















