চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস নিয়ে সরকারের সমালোচনা, যা বললেন চরমোনাই পীর

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর — দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম ও হত্যাসহ নানা অনাচার বন্ধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম।
মঙ্গলবার ঢাকায় দলের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা অব্যাহত থাকলে স্বাধীনতার ৭৫ বছর বা শতবর্ষ উদযাপন করেও জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসবে না।
রেজাউল করিম বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষ রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির প্রত্যাশা করেছিল। তবে প্রচলিত নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ায় সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী মানুষের জীবনমান ও ভাগ্যে পরিবর্তন আসেনি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক নীতির পরিবর্তন না হলে স্বাধীনতার ৭৫ বছর বা ১০০ বছর উদযাপন করেও জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে জনগণ তাদের কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিয়েছে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, বিদ্যমান নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত কোনো সরকারই কাঙ্ক্ষিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন আনতে পারেনি। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন না করে জনগণকে প্রতারিত করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে রেজাউল করিম বলেন, তার দল নীতির প্রশ্নে আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে নীতির পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার পুরোনো ধারা থাকবে না বলে তারা আশা করেছিলেন। তবে বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ তুলে আতাউর রহমান বলেন, এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
ইসলামী আন্দোলনের কোনো গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই দাবি করে তিনি বলেন, দলটি প্রকাশ্যেই জানিয়েছে যে তারা দেশে ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন করতে চায়।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ নেতাকর্মীদের প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান। শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার ওয়ার্ডগুলো থেকেই এ উদ্যোগ শুরু করতে চান তারা।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, নির্ধারিত ভিশন ও মিশন অনুযায়ী দলটি এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণ তাদের নির্বাচিত করলে ঢাকা মহানগরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।












