চীনের নতুন নিরাপত্তা বিধি: চীনের নতুন প্রযুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধি কার্যকর, বিদেশযাত্রায় কড়াকড়ি

বেইজিং: জাতীয় প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হলে চীনা নাগরিকদের বিদেশযাত্রা ঠেকানোর সুযোগ রেখে নতুন বিধিমালা কার্যকর করেছে চীন।
মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এক্সিট-এন্ট্রি বিধির আওতায় প্রযুক্তি ও শিল্প নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানকালে জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের ক্ষতি করে এমন বেআইনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে চীনে ফিরে আসা নাগরিকদের ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।
বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাদের এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।
চীনে সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মীদের বিদেশযাত্রার ওপর দীর্ঘদিন ধরেই বিধিনিষেধ রয়েছে, যাদের কাছে গোপনীয় বা সংবেদনশীল তথ্যের প্রবেশাধিকার রয়েছে।
২০২৩ সালে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিদেশি প্রভাব ঠেকাতে বেইজিংয়ের অভিযান জোরদারের মধ্যে চীনা সরকারি কর্মচারী ও রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যক্তিগত বিদেশভ্রমণে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও নজরদারির আওতায় আনা হয়।
বিদেশি সরকারগুলোও চীনে নিরাপত্তাসংক্রান্ত তদন্তের কারণে নাগরিকদের দেশ ছাড়ার অনুমতি না দেওয়ার ঘটনা জানিয়েছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মিয়ানমার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মিন জিনকে চীনা কর্তৃপক্ষ আটক করে। জুনে জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র তার আটকের ঘটনাকে অন্যায় বলে আখ্যায়িত করেছে।
এদিকে নতুন বিধিমালা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তাইওয়ান। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং সেখানকার মানুষকে চীনা নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে।
তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের উপপ্রধান শেন ইউ-চুং বলেন, নতুন বিধিমালা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আগে আইনগতভাবে সুস্পষ্ট ভিত্তি না থাকা কিছু চর্চাকে বৈধতা দিচ্ছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ক্ষমতা ও বিবেচনার পরিধি বাড়াচ্ছে।
সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে ‘রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাপনা’কে বিদেশযাত্রা সীমিত করার কারণ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, চীনের প্রযুক্তি খাতে কাজ করা তাইওয়ানের নাগরিকরা এ বিধির আওতায় পড়তে পারেন।
তবে তাইওয়ানের উদ্বেগ নাকচ করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, নতুন বিধিমালা তাইওয়ানের নাগরিকদের জন্য আরও শক্তিশালী আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।



