বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের দায় অন্তর্বর্তী সরকারের: তদন্ত কমিটি

ঢাকা: চলতি বছরের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেছে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দাস্তগীর মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সাংবাদিকদের বলেন, ওই সময় সরকারের দায়িত্বে থাকা ড. আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
“গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, সে সময় সরকারের দায়িত্বে থাকা ড. আসিফ নজরুল এ বিষয়ে দায়ী ছিলেন এবং সরকারও দায়ী ছিল,” বলেন ফয়সাল দাস্তগীর।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে গত ১০ মে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবারের বিশ্বকাপ।
মঙ্গলবার কমিটি ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভেন্যু পরিবর্তনে আইসিসির অনাগ্রহ এবং সরকারের হস্তক্ষেপ—এই তিনটি বিষয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘খুব বেশি’ প্রভাব ফেলেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আলোচনায় ব্যর্থতাকে ‘বেশি’ প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগের ঘাটতিকে কম মাত্রার প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি।
তদন্ত কমিটির মতে, এই ঘটনার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের। ফয়সাল দাস্তগীর বলেন, “বাংলাদেশের বিশ্বকাপে যাওয়া এবং অংশ নেওয়া উচিত ছিল।”
প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে ক্রিকেটকে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে আলাদা রাখা, বিসিবির স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী করা, সংকটকালীন যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জাতীয় ক্রীড়া কূটনীতি কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওলি উল্লাহ। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ক্রীড়া সংগঠক ব্যারিস্টার ফয়সাল দাস্তগীর।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। পরে ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না যাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা মার্চে জানিয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ক্রিকেটাররা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। তবে নিরাপত্তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগের প্রভাব ছিল বিসিবির সিদ্ধান্তে।
এই অচলাবস্থার সূত্রপাত হয় ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনার পর কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেয়।
এরপর আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একাধিক আলোচনা হলেও ভেন্যু পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধের অবসান ঘটে।



