বাঁধনের ওপর হামলা: ‘মাফিয়া গ্যাংয়ের’ হাতে নিপীড়ন সঠিক পথে থাকার প্রমাণ
ইতালিতে হামলার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ শুরু, বিষয়টি ‘কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে না’: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনাকে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সঠিক ছিল—এমন দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া গ্যাং’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে বাঁধনের হেনস্তার ঘটনা আওয়ামী লীগের চরিত্র সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যেরও প্রমাণ।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশে জাহেদ উর রহমান বলেন, “এটা একধরনের অর্জন, সম্মান প্রাপ্তি যে আওয়ামী লীগের হেনস্তার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি সঠিক পথে ছিলেন।”
ইতালিতে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। “আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না। এটা কোনোভাবে ছেড়ে দেওয়া যাবে না,” বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করেন না জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, “ইটস (আওয়ামী লীগ) এ মাফিয়া গ্যাং।” তাঁর মতে, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা দলটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে একটি উদাহরণ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের রাজনৈতিক অধিকার দেওয়া এবং বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে মন্তব্য
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে তোলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তাঁর শাসনামলে যা ঘটিয়েছেন, এরপর যদি তাঁর ন্যূনতম অনুশোচনা থাকত এবং রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা থাকত, তাহলে এ ধরনের সহিংসতা ঘটত না।
তাঁর এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন বাঁধনের ওপর ইতালিতে হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বাঁধনের অভিযোগ
ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। তিনি ঘটনার ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেন।
বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছোড়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় জড়িত কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।
বাঁধনের আরও অভিযোগ, তাঁকে জোর করে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” বলতে বলা হয়। হামলাকারীরা সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশের চেষ্টা করেন বলেও তিনি দাবি করেন।
‘ছেড়ে দেওয়া হবে না’
হামলার ঘটনায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি ছেড়ে দেবে না এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তবে হামলার ঘটনায় ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সরকারের পক্ষ থেকে ইতালিতে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা জানানো হলেও, অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।



