কক্সবাজারে শিশুকে হত্যা: কক্সবাজারে দুই মাসের শিশুকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, মা গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুই মাস বয়সী শিশুসন্তান রায়ান আহমেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তার মা রোমানা আক্তারকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজারের রামুতে দুই মাস বয়সী এক শিশুকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তার মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ। সে রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে নিয়ে ঘরে প্রবেশের পর ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
রামুতে দুই মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় রোমানা আক্তার তাঁর দুই মাস বয়সী ছেলে রায়ান আহমেদকে নিয়ে ঘরে ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির গলা কেটে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বা পরে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে রামু থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়।
নিহত শিশুর বাবা মালয়েশিয়ায়
নিহত রায়ান আহমেদ রামুর রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার আবদুল মালেকের ছেলে। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।
মাত্র দুই মাস বয়সী শিশুর এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং কী পরিস্থিতিতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ।
মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের দাবি
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, রোমানা আক্তার মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এর আগে তাঁর চিকিৎসাও করানো হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো রোমানা আক্তারের মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ওসি জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
পুলিশ বলছে, পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও তদন্তের ফলাফলের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে শিশুটির মৃত্যুর ধরন ও আঘাতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আলামত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তে বিবেচনা করা হবে।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
থানায় হত্যা মামলা
এ ঘটনায় রামু থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ওই মামলায় রোমানা আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের কারণ, ঘটনার আগে ও পরের পরিস্থিতি এবং অভিযুক্তের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হতে পারে।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে বেরিয়ে আসবে ঘটনার প্রকৃত কারণ
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের যে দাবি, সেটিও যাচাই করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত ও চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে রোমানা আক্তার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। দুই মাস বয়সী শিশুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক যাচাই করে দেখছে পুলিশ।



