শেষ পর্যন্ত কি তুরস্কের ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরেই যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহ? চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা
তুরস্কের সুপার লিগের ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরের সঙ্গে মিসরের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সালাহকে দলে ভেড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাবজোনস্পোর জানায়, মোহাম্মদ সালাহকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ ধাপে পৌঁছেছে। ক্লাবটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার প্রথমে সালাহ ইস্তাম্বুলে পৌঁছাবেন। এরপর সেখান থেকে তিনি ট্রাবজোনে যাবেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সালাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর সময়সূচি এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য তাদের অফিসিয়াল যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
দুই বছরের চুক্তির সম্ভাবনা
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ বছর বয়সী এই মিসরীয় ফরোয়ার্ড ট্রাবজোনস্পোরের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। যদিও ক্লাব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়নি, তবে আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক বলেই জানা গেছে।
গত মৌসুমে তুর্কি সুপার লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ট্রাবজোনস্পোর। এর ফলে তারা আগামী মৌসুমে উয়েফা ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী দল গড়ার লক্ষ্যেই ক্লাবটি অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের ফুটবলারদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লিভারপুল অধ্যায়ের পর নতুন গন্তব্যের খোঁজ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লিভারপুল ছাড়ার পর থেকেই মোহাম্মদ সালাহ নতুন ক্লাবের সন্ধানে রয়েছেন। ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ নয় মৌসুম খেলেছেন তিনি। এই সময়ে ৪৪২ ম্যাচে ২৫৭টি গোল করে নিজেকে ক্লাবের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
লিভারপুলের জার্সিতে সালাহর অর্জনের তালিকাও সমৃদ্ধ। তাঁর সময়েই ক্লাবটি জিতেছে প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং উয়েফা সুপার কাপ। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম সফল ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজের নাম লেখান।
সালাহকে ঘিরে ছিল একাধিক ক্লাবের আগ্রহ
শুধু ট্রাবজোনস্পোর নয়, বিশ্বের বিভিন্ন লিগের ক্লাবও মোহাম্মদ সালাহকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) এবং সৌদি আরবের একাধিক ক্লাব তাঁর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
এছাড়া ট্রাবজোনস্পোরের তুর্কি প্রতিদ্বন্দ্বী বেসিকতাসও সালাহকে প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছিল। ফলে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে তুরস্কের দুই বড় ক্লাবের মধ্যে প্রতিযোগিতার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
মোহাম্মদ সালাহ দীর্ঘদিন ধরেই মিসর জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান ভরসা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের বিশ্বকাপে তিনি পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে মিসর শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছেছিল। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে তাদের যাত্রা শেষ হয়।
জাতীয় দলের হয়ে সালাহর নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতা এখনও মিসরের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হয়।
শেষ মৌসুমে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ মৌসুমে সালাহ তাঁর পরিচিত ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। বছরের শেষ দিকে টানা তিন ম্যাচ তিনি প্রথম একাদশের বাইরে ছিলেন। এরপর এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, দলের খারাপ ফলাফলের জন্য তাঁকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে তৎকালীন কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না বলেও দাবি করা হয়। এমনকি জানুয়ারির দলবদলের আগেই ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষের ম্যাচের দলেও তাঁর নাম ছিল না।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনস শেষে আবার দলে ফিরলেও আগের ধারাবাহিকতা ফিরে পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি চারবার প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন, শেষ মৌসুমে সেই মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন।
এখন নজর ট্রাবজোনস্পোরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায়
সব মিলিয়ে মোহাম্মদ সালাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। ট্রাবজোনস্পোরের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য চুক্তির খবর ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
যদি শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন মিসরের এই তারকা। একই সঙ্গে ট্রাবজোনস্পোরও তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় তারকা ফুটবলারকে দলে ভেড়ানোর কৃতিত্ব অর্জন করবে।



