ঢাকার ১১২ ওয়ার্ডে জামায়াতের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী, চূড়ান্ত মনোনয়ন বাকি

ঢাকার ১১২ ওয়ার্ডে জামায়াতের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী, চূড়ান্ত মনোনয়ন বাকি
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সাদিক কায়েম

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১২টিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম অভ্যন্তরীণ বৈঠকে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ১৭টি ওয়ার্ডে যাচাই-বাছাই চলছে।

তবে এসব প্রার্থীর কারও চূড়ান্ত মনোনয়ন এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

জামায়াতের সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৩টিতে এবং দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৯টিতে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। উত্তর সিটির ১১টি এবং দক্ষিণ সিটির ছয়টি ওয়ার্ডে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত ১৩ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, এখনো কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। যাঁদের ওয়ার্ডে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্য থেকে কারও নাম বাদ পড়তে পারে। প্রয়োজনে বিকল্প প্রার্থীও দেওয়া হবে।

মেয়র পদেও সম্ভাব্য প্রার্থী

কাউন্সিলর পদের পাশাপাশি দুই সিটির মেয়র পদেও সম্ভাব্য প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে জামায়াত। দলীয় নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরে মহানগর শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন।

দলীয় বৈঠকে তাঁদের নাম আলোচনায় এলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তাঁদের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ১৫ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, মেয়র প্রার্থীদের নাম কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে সংশ্লিষ্ট মহানগর শাখা। নির্বাচন পরিচালনার জন্য মহানগর পর্যায়ে পৃথক কমিটি থাকলেও এখনো প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচার

সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

ঢাকা উত্তর সিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন নোমান আহমদী। তিনি মহানগর জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং তেজগাঁও থানা জামায়াতের আমির।

নোমান আহমদী ১৩ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে কাউন্সিলর পদে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং নামাজের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন আবদুস সাত্তার সুমন। তিনি ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের শুরা সদস্য ও সহপ্রচার সম্পাদক। ওয়ার্ডটিতে বেইলি রোড, ইস্কাটন, মন্ত্রিপাড়া, বাংলামোটর, সিদ্ধেশ্বরী, পশ্চিম মালিবাগ, কাকরাইল, মিন্টো রোড ও সেগুনবাগিচার কিছু অংশ রয়েছে।

আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকে তিনি স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ভোটারদের সঙ্গে কুশলবিনিময় এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মেডিকেল ক্যাম্প ও মশকনিধন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনের সময়সূচি অনিশ্চিত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল জামায়াতের। গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিল। সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন না হলেও দলটি প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে।

১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাঁচ ধাপের সময়সূচি চূড়ান্ত করে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা করেনি কমিশন।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দেওয়া হলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


Leave a Comment