বিশ্বে জুতা উৎপাদনে সপ্তম বাংলাদেশ, বছরে তৈরি ৫৫ কোটি জোড়া

ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক ২০২৬ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ৫৫ কোটি ৪০ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদিত হয়েছে। বিশ্ব উৎপাদনে বাংলাদেশের অংশ ২.৩ শতাংশ।

বিশ্বে জুতা উৎপাদনে সপ্তম বাংলাদেশ, বছরে তৈরি ৫৫ কোটি জোড়া

জুতা উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে দেশে ৫৫ কোটি ৪০ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে।

পর্তুগিজ ফুটওয়্যার, কম্পোনেন্টস অ্যান্ড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এপিআইসিআইসিএপিএস) উদ্যোগে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক ২০২৬–এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে মোট ২ হাজার ৪৬০ কোটি জোড়া জুতা উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কম। এর মধ্যে এশিয়ার দেশগুলো উৎপাদন করেছে ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

জুতা উৎপাদনে শীর্ষ ১০ দেশ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জুতা উৎপাদনের ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ আসে শীর্ষ ১০ দেশ থেকে। একক দেশ হিসেবে চীনের অবদান সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে চীন ১ হাজার ৩৬৬ কোটি জোড়া জুতা উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারত উৎপাদন করেছে ৩০০ কোটি জোড়া, আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের উৎপাদন ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ জোড়া।

তালিকায় চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। দেশ তিনটির উৎপাদন যথাক্রমে ৮৪ কোটি ৮০ লাখ, ৭৮ কোটি ২০ লাখ ও ৬২ কোটি ৭০ লাখ জোড়া।

বাংলাদেশের পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে তুরস্ক, কম্বোডিয়া ও মেক্সিকো।

জুতা রপ্তানিতে চীনের আধিপত্য কমছে

উৎপাদনের পাশাপাশি জুতা রপ্তানিতেও এশিয়ার দেশগুলোর আধিপত্য রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে রপ্তানি হওয়া জুতার ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশ এসেছে এশিয়া থেকে। তবে শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নেই।

গত বছর চীন প্রায় ৯০১ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে, যা বৈশ্বিক রপ্তানির ৬১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ২০১৬ সালে বিশ্ব জুতা রপ্তানিতে দেশটির অংশ ছিল ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রতিবেদনটিতে চীনের রপ্তানি অংশ কমার পেছনে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময়ে চীনের হারানো বাজারের একটি অংশ পেয়েছে ভিয়েতনাম।

২০২৫ সালে ভিয়েতনাম ১৬৬ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে, যা বৈশ্বিক রপ্তানির ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৫৮ কোটি, জার্মানি ৩৬ কোটি এবং ভারত ২৭ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে।

শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারকের তালিকায় চীন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি রয়েছে জার্মানি, ভারত, কম্বোডিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও তুরস্ক।

জুতার গড় রপ্তানিমূল্যে এগিয়ে ইউরোপ

পরিমাণের হিসাবে এশিয়া জুতা রপ্তানিতে এগিয়ে থাকলেও প্রতি জোড়া জুতার গড় রপ্তানিমূল্যে এগিয়ে ইউরোপ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপের রপ্তানিকারকেরা প্রতি জোড়া জুতার গড় মূল্য পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৭৬ ডলার। এশিয়ার ক্ষেত্রে গড় মূল্য ছিল ৮ দশমিক ০২ ডলার।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক জুতা আমদানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপ। গত বছর বিশ্বে আমদানি হওয়া মোট জুতার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ এ মহাদেশে গেছে। এশিয়ার অংশ ছিল ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকার ২০ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় বিশ্ব জুতা আমদানিতে উত্তর আমেরিকার অংশ কমেছে। ওই বছর এ অঞ্চলের অংশ ছিল ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অংশ বেড়েছে।

জুতার সবচেয়ে বড় বাজার এশিয়া

২০২৫ সালে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জুতার ৫৬ শতাংশের গন্তব্য ছিল এশিয়া। তবে এ অঞ্চলে মাথাপিছু জুতা ব্যবহারের হার তুলনামূলক কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর এশিয়ায় মাথাপিছু জুতা ব্যবহারের গড় ছিল ২ দশমিক ৬ জোড়া।

মাথাপিছু ব্যবহারে এগিয়ে ছিল উত্তর আমেরিকা। সেখানে একজন মানুষ বছরে গড়ে ৪ দশমিক ৬ জোড়া জুতা ব্যবহার করেছেন। ইউরোপে এ গড় ছিল ৪ দশমিক ১ জোড়া। আফ্রিকায় মাথাপিছু ব্যবহার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৬ জোড়া।

প্রতিবেদনের এসব পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, এশিয়া শুধু জুতা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র নয়, বৈশ্বিক চাহিদারও সবচেয়ে বড় অংশ এ অঞ্চলে। তবে মাথাপিছু ব্যবহারের হিসাবে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ এগিয়ে রয়েছে।


Leave a Comment