১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ: আট দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে, হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ: আট দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে, হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের
১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ: আট দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে, হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

ঢাকা, শনিবার — ১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের চলমান আন্দোলনের আট দফা দাবি ভবিষ্যতে এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি বলেন, বিরোধী দলের দাবি প্রয়োজনে আট থেকে নয় বা দশ দফায় যেতে পারে এবং জাতির প্রয়োজন হলে তা এক দফায় পরিণত হতে পারে।

শফিকুর রহমান বলেন, আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই পরিস্থিতির আগে সরকারকে সাম্প্রতিক অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, দাবি পূরণ না হলে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকি দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

চট্টগ্রাম অভিমুখী আগের লংমার্চ সফল হওয়ার পর কিছু মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের আমির। তিনি আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, ১১-দলীয় জোট কোনো একক দলের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেনি; বরং জনগণের বিভিন্ন দাবি নিয়ে তারা মাঠে রয়েছে। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। তিনি কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

চট্টগ্রামের ছয় দাবির সঙ্গে রংপুরে যুক্ত হয়েছে আরও দুই

৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ১১-দলীয় ঐক্য ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।

রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজিচাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করা হয়েছে।

জোটের নেতারা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খুলনা ও সিলেটেও লংমার্চের ঘোষণা

১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর ফলে চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেট—দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

জোটের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, লংমার্চ ও সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলো বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং সরকারকে এসব দাবি বাস্তবায়নে চাপ দেওয়া তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এর মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিও রয়েছে।

ঘোষিত চারটি লংমার্চ শেষ হওয়ার পর দেশের আরও কয়েকটি বিভাগীয় শহরে একই ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জোটের সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।

সম্পাদকীয় নোট/বিশ্লেষণ

১১-দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চগুলো জাতীয় রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে আঞ্চলিক ইস্যুকে যুক্ত করছে। চট্টগ্রামের কর্মসূচিতে জাতীয় বিষয়গুলো প্রাধান্য পেলেও রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো স্থানীয় ও দীর্ঘমেয়াদি দাবিকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কর্মসূচির রাজনৈতিক পরিসর বিস্তৃত করার পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের নির্দিষ্ট উদ্বেগকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা স্পষ্ট। তবে এসব কর্মসূচির বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে জনসম্পৃক্ততা, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং জোটের পরবর্তী কর্মসূচির ওপর।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top