১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ ‘রাজনৈতিক’: দুদককে ‘অস্ত্র’ বললেন আসিফ
ঢাকা: প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা অস্ট্রেলিয়া, দুবাই ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, এসব অভিযোগের তদন্ত হলে তিনি তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে যে পদোন্নতিগুলো হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেগুলো আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আজ একটি অভিযোগ করছে, কাল আরেকটি অভিযোগ করবে। করতে থাকুক। আমরা এর জন্য প্রস্তুত।”
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনের সময় নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আসিফ মাহমুদ দুদকের এ উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার দাবি, অভিযোগে উল্লেখ করা কয়েকটি সিদ্ধান্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পর নেওয়া হয়েছিল।
দুদক সংস্কারের জন্য জারি করা অধ্যাদেশ বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “দুদক সংস্কারের যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সেটি যখন বাতিল হতে দেখলাম, তখনই বুঝেছিলাম দুদককে কেন এবং কীভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।”
Read More
সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নীতিরও সমালোচনা করেন আসিফ মাহমুদ। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে বিএনপি এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উল্লেখ করে আসিফ বলেন, “তারা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে—চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরি করে। নিজেদের দলের ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগে একটি জায়গায় চাঁদা দিতে হলেও এখন বিভিন্ন পর্যায়ে চারটি জায়গায় চাঁদা দিতে হচ্ছে।
এদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক মিছিলকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। রাজধানীর গুলশানে সাম্প্রতিক একটি মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনে নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা মিছিল করছেন। অথচ সরকারে থাকা বিএনপি তা ঠেকাতে পারছে না।
এর আগে একই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিল-সমাবেশ না করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “মিছিল-সমাবেশ করে কোনো লাভ নেই। আপনার নেতা ডিসেম্বরে ফিরছেন না। নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাবার সময়ও তার নেই। এখনো সময় আছে। বাড়ি ফিরে যান।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের কোনো শরিক দল বা অন্য কেউ ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা ভোট কারচুপির চেষ্টা করলে জোটের দলগুলো সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করবে।



