স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বের আশঙ্কা, ইসির স্বাধীনতা চায় জামায়াত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বের আশঙ্কা, ইসির স্বাধীনতা চায় জামায়াত
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে / ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর — স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করতে প্রশাসনিক ও অন্যান্য অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর এবং শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

তবে রূপরেখা ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ওই সময়সূচি নিয়ে আপত্তি জানান বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রূপরেখাটিকে ‘পুরোপুরি প্রাথমিক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার কথা জানায়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সরকারের আপত্তি বা রাজনৈতিক চাপের কারণে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করলে তা নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

“নির্বাচন কমিশনকে যদি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়, তাহলে জনগণের ভোটের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে,” তিনি বলেন।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মেয়াদ দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয় গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের একটি সুপারিশ নিয়েও আপত্তি জানায় জামায়াত।

গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের অনেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা বৈষম্যমূলক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, সরকার বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা পরিবর্তন করে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী করার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।

তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন বর্জনের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে কি না।

জামায়াতের আট দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আট দফা দাবি তুলে ধরে জামায়াত। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া;
  • মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী বা কোনো রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করা;
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো অজুহাত গ্রহণ না করা;
  • দ্রুত একটি সুস্পষ্ট, চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা;
  • সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ ও কার্যকর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা;
  • প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া;
  • নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের প্রকাশ্য ও কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়া; এবং
  • স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে সরকার-নিযুক্ত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ বাতিল করা।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এবং এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top