বিপিএলে ফিক্সিং এর অভিযোগে সাবেক পরিচালকসহ তিনজনকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি

ঢাকা — বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিং ও দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ তিনজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।
অন্য দুজন হলেন বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হাসান এবং অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।
বিসিবি আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়। অভিযোগের জবাব দিতে তাঁদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপিএলের ১২তম আসরের কোনো ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্যান্য বিষয় বেআইনিভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং ফিক্সিং–সংক্রান্ত চুক্তি বা প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে প্ররোচিত, উসকানি বা সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে বিস্তারিতভাবে জানাতে ব্যর্থ হওয়া এবং তদন্তে প্রাসঙ্গিক বা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে এমন যোগাযোগের তথ্য মুছে ফেলা বা ধ্বংস করার অভিযোগও রয়েছে মোখলেছুরের বিরুদ্ধে।
গত বিপিএলের সময় ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর বিসিবির অডিট কমিটির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন মোখলেছুর। আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ডে তিনি পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
একই আসরের দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছেন বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হাসান। তাঁর বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য কোনো বিষয় বেআইনিভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা কিংবা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো অংশগ্রহণকারীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতিতে জড়াতে প্ররোচিত বা উৎসাহিত করা এবং যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তৃতীয় ব্যক্তি রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধেও দুর্নীতিবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বগুড়া জেলার সাবেক কাউন্সিলর এবং বিসিবির অডিট কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানানো এবং যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা বা সহযোগিতায় অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ রয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অভিযুক্ত তিনজন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।



