মাগুরায় বাস কাউন্টারে যুবদল নেতার মৃত্যু, গোসলের সময় মাথায় ক্ষত শনাক্ত

মাগুরায় বাস কাউন্টারে যুবদল নেতার মৃত্যু, গোসলের সময় মাথায় ক্ষত শনাক্ত
শাকের হোসেন – ছবি : সংগৃহীত

মাগুরা, বুধবার: মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একটি বাস কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে শাকের হোসেন (৩৯) নামে যুবদলের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ গোসলের প্রস্তুতির সময় তাঁর মাথার পেছনে ছিদ্রের মতো একটি ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের অভিযোগ, শাকেরকে পরিকল্পিত ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এটি গুলির ক্ষত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেননি চিকিৎসকেরা। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শাকের মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি পৌরসভার পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত কুতুবউদ্দিনের ছেলে।

রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের মাগুরা কাউন্টারের ব্যবস্থাপক বিপুল কুমার দাস জানান, শাকের প্রায় ১৭ বছর ধরে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করছিলেন। বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে তিনি কাউন্টারে আসেন। সকাল ৫টা ২৫ মিনিটে তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এরপর সকাল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে প্রথম ট্রিপের বাসের কন্ডাক্টর তাঁকে জানান, শাকের কাউন্টারে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।

পরে তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে দৃশ্যমান আঘাত না থাকায় পরিবার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। গোসলের প্রস্তুতির সময় মাথার পেছনে ক্ষতটি নজরে এলে মরদেহ আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসান বলেন, মাথার চুল কামিয়ে পরীক্ষা করে সেখানে একটি ছিদ্রকারী ক্ষত পাওয়া গেছে। তবে এটি আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে, নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

শাকেরের আত্মীয় ও মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য মো. কুতুবউদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, একটি মোটরসাইকেলে দুজন ব্যক্তি টার্মিনালে এসেছিলেন। এ সময় জোরে সাইলেন্সারের শব্দ শোনা যায়। একজন যাত্রী গুলির শব্দ শুনেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, শাকেরের বসার জায়গার টেবিলের ওপর ও নিচে মেঝেতে রক্তের দাগ ছিল। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেন।

সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন দল ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করছে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।


Leave a Comment