আবুধাবিতে নেতানিয়াহু ও আমিরাত প্রেসিডেন্টের বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ
রোববার আবুধাবিতে বৈঠক করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ; সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

আবুধাবি, ৩০ সেপ্টেম্বর: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবার দুই পক্ষের পক্ষ থেকেই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং তা আরও জোরদার ও উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সফরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার স্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান, মোসাদের প্রধান, সামরিক সচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন।
সিএনএনের কাছে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকে ইরান নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে। ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা সহযোগিতাও বেড়েছে।
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। একই সময়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য বড় হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন—এমন প্রতিবেদন নিয়েও আলোচনা চলছে।
হারেৎস ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ওই সতর্কবার্তার দাবি উঠে এসেছে। দ্য আটলান্টিক ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও হামাসের হামলার আগে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে মিসরীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে সতর্ক করার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় এসব সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে এবং প্রতিবেদনগুলোকে তার রাজনৈতিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের নেতাদের কথোপকথন নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন বা জল্পনা বিষয়ে মন্তব্য না করার কথা জানিয়েছে। তবে তারা বলেছে, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাসঙ্গিক গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
সোমবারের বৈঠক নিয়ে ইসরায়েল ও আমিরাতের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ৭ অক্টোবরের ওই কথিত সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি।
২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরটি আগে থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। চলতি বছরের মে মাসে নেতানিয়াহুর কার্যালয় মার্চে তার আমিরাত সফরের দাবি করলেও সে সময় আমিরাত ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল।













