দিল্লি বিমানবন্দরে ভগবন্ত মান কে ঘিরে বিতর্ক, ৫০ হাজার রুপি শুল্ক নিয়ে মুখোমুখি আপ ও বিরোধীরা

দিল্লি বিমানবন্দরে ভগবন্ত মান কে ঘিরে বিতর্ক, ৫০ হাজার রুপি শুল্ক নিয়ে মুখোমুখি আপ ও বিরোধীরা

ফ্রান্স সফর শেষে দেশে ফেরার পর ভারতের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান কে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টা আটকে রাখা এবং ৫০ হাজার রুপি শুল্ক আরোপের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে পাঞ্জাবের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (আপ)। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, লাগেজে ঘোষণা না করা সামগ্রী পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আপের পাঞ্জাব শাখার মিডিয়া ইনচার্জ বলতেজ পান্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে বিমানবন্দরে মানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি ও অপমান করা হয়েছে।

পান্নুর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে প্যারিসে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য উৎসবে পাঞ্জাবের পণ্য প্রদর্শন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রটোকল দেওয়ার কথা থাকলেও প্যারিসে নিযুক্ত ভারতের কনসাল জেনারেল তাকে অভ্যর্থনা জানাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পান্নু আরও বলেন, দেশে ফেরার পর লাগেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার অজুহাতে মানকে প্রায় তিন ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে তিনি গাড়িতে ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ৫০ হাজার রুপির শুল্কের চালান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আপের এই নেতা।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। তিনি সরকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে অভিযোগ করেন।

তবে এনডিটিভির প্রতিবেদনে দিল্লি বিমানবন্দর কাস্টমস বিভাগের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মান ও তার সফরসঙ্গীদের লাগেজে ঘোষণা না করা কিছু সামগ্রী পাওয়া যায়। এ কারণে বিধি অনুযায়ী ৫০ হাজার রুপি কাস্টমস শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী শিরোমণি আকালি দলের (এসএডি) সাধারণ সম্পাদক বিক্রম সিং মজিথিয়া দাবি করেন, নির্ধারিত সীমার বেশি লাগেজ বা অর্থ বহনের অভিযোগে মান ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদা বিবেচনায় তাকে ছাড় দেওয়া হলেও আইন লঙ্ঘনের কারণেই কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আপের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ ও কাস্টমসের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টিকে শুল্কবিধি প্রয়োগের ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।


Leave a Comment