জামায়াত নেতার গাড়ি ভাঙচুর এর অভিযোগে এবি পার্টির সামদানীকে অব্যাহতি

কুমিল্লা, ১৫ অক্টোবর — কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সামদানীকে তাঁর পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সামদানী। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার সময় তিনি অসুস্থ বাবাকে নিয়ে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর দাবি, জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিরোধের ঘটনায় তাঁকে জড়ানো হচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লা শহরের মোগলটুলী এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে জামায়াতের মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কার্যালয়ের ভেতরে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের নেতাদের একাংশের ভাষ্য, মহানগর কমিটি গঠন ও আমির নির্বাচন নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ওই ঘটনা ঘটে। মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক মামুনের অনুসারী নেতা-কর্মীদের একাংশ বৈঠক চলাকালে হট্টগোল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁরা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এলে মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে সাদা কাপড় বাঁধা এক ব্যক্তি ভারী বস্তু দিয়ে গাড়িটির বিভিন্ন অংশে আঘাত করছেন। কয়েকজন তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি গাড়ির কাচ ভাঙতে থাকেন।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল দাবি করেন, ফুটেজে সামদানীকে গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সামদানীর দলের নেতারাও তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। এ কারণেই তাঁকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ফুটেজে থাকা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামদানী প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর বাবা স্ট্রোক করায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোনো ও নতুন ভবনে অবস্থান করেন বলে দাবি করেন তিনি। ফুটেজে থাকা ব্যক্তি তিনি—এমন অভিযোগের জবাবে সামদানী প্রশ্ন তোলেন, ঘটনাস্থলে তিনি থাকলে তাঁকে তখন আটকানো বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি কেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁকে বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এখন সাবেক রাজনৈতিক সহকর্মীরাই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন সামদানী। “আমি ছাত্রশিবির করে বড় হয়েছি। আমার বাবা ছাত্রশিবির করার জন্য একটা চোখ হারিয়েছেন। সেই সংগঠন এখন আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দিচ্ছে,” বলেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে এবি পার্টির কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক ফেসবুকে লিখেছিলেন, সামদানীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তাঁদের নজরে এসেছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দলীয় শৃঙ্খলা কমিটিতে উপস্থাপনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর ও জেলা শাখা জড়িত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সামদানী আগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়কের পাশাপাশি কুমিল্লা মহানগর ইনকিলাব মঞ্চেরও আহ্বায়ক।
এদিকে জামায়াতের মহানগর কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে এ কে এম এমদাদুল হক মামুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময়ে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় তখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।



















