রাশিয়ার নির্বাচন : রাশিয়ায় পুতিনপন্থী ইউনাইটেড রাশিয়ার রেকর্ড জয়, আঞ্চলিক পার্লামেন্টে ইয়াবলোকোর অগ্রগতি

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া ৩৫৫ আসন পেয়ে রেকর্ড জয় পেয়েছে। যুদ্ধবিরোধী ইয়াবলোকো নভগোরোদে আঞ্চলিক পার্লামেন্টে প্রবেশের পথে।
রাশিয়ার নির্বাচন ২০২৬ঃ রাশিয়ায় পুতিনপন্থী ইউনাইটেড রাশিয়ার রেকর্ড জয়, আঞ্চলিক পার্লামেন্টে ইয়াবলোকোর অগ্রগতি
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারওম্যান এলা পামফিলোভা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে মস্কোতে কমিশনের সদর দপ্তরে রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করছেন। REUTERS/Shamil Zhumatov

মস্কো:– ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি রেকর্ড ৩৫৫টি আসন পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। একই সময়ে যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো একটি আঞ্চলিক পার্লামেন্টে সীমিত আসন পাওয়ার পথে রয়েছে।

সোমবার ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা জানান, ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি পেয়েছিল ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট।

৪৫০ আসনের স্টেট ডুমায় ৩৫৫টি আসন পেলে পার্লামেন্টে দলটির প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এর ফলে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া ও আইন পাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দলটির হাতে থাকবে। ২০১৬ সালে পাওয়া ৩৪৩ আসন ছিল দলটির আগের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপিআর) ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং নিউ পিপল ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাস্ট রাশিয়া পার্টিও ৫ শতাংশের নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করে পার্লামেন্টে জায়গা পেয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এসব দল সাধারণত ইউনাইটেড রাশিয়ার সঙ্গে একই অবস্থানে ভোট দিয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই প্রথম জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই নির্বাচনকে তার সরকারের প্রতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি সমর্থনের একটি পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

তবে নির্বাচনটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে প্রকৃত বিরোধিতার সুযোগ সীমিত। ইয়াবলোকো জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পাননি। নির্বাসিত বিরোধী কর্মীরাও ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান পামফিলোভা ভোটকে ‘সুষ্ঠু’ বলে দাবি করেছেন। তার দেওয়া হিসাবে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

জাতীয় পার্লামেন্টে কোনো আসন না পেলেও আঞ্চলিক পর্যায়ে ইয়াবলোকো কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। মস্কোর প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত নভগোরোদ অঞ্চলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট গণনার পর দলটি ৫ শতাংশের নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করেছে বলে দেখা গেছে। দলটির দাবি, সেখানে ১২ হাজারের বেশি ভোটার তাদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

ইয়াবলোকো ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে, পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রমজান কাদিরভ চেচেন প্রজাতন্ত্রের নেতা হিসেবে পঞ্চম মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে তিনি প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন মস্কোভিত্তিক ভোটার ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করেননি। কেউ কেউ ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া এবং অর্থনৈতিক ও যাতায়াতসংক্রান্ত সমস্যার অবসান কামনা করেছেন। অন্যদিকে, কিছু ভোটার বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট বলেও জানিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top