জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী: আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ, লোকসান ও পাচারের ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক-ঢাকা:- আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২১
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আবির্ভূত হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ছে, জাহাজভাড়াও বাড়ছে। এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।”
তিনি বলেন, সরকার উপায়হীন না হলে এমন একটি “অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত” নিতে চাইত না।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় সরকারকে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এতে প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি জানান।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর যে চাপ তৈরি হবে, তা তিনি উপলব্ধি করেন উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি জনগণের কষ্ট বুঝতে পারি।” এ জন্য তিনি জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দাম প্রতি লিটার ২০৫ টাকা হলেও মূল্য সমন্বয়ের আগে দেশে তা ১১৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল।
মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানান তিনি। আগে এ লোকসানের পরিমাণ ছিল ৯০ টাকা।
তার হিসাব অনুযায়ী, দাম সমন্বয় না করা হলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো। সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
জ্বালানি তেলে ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ব্যাহত হতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার অসচ্ছল পরিবারগুলোকে পারিবারিক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
আঞ্চলিক বাজারের দামের তুলনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, নেপালে ১৬১ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা এবং ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পাচার ঠেকাতেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
দাম বৃদ্ধির প্রভাব যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জনগণ উপলব্ধি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।



