রিয়াদে বিস্ফোরণ: কিং খালিদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন
রিয়াদ, সৌদি আরব: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। ঘটনার পর শহরজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
শনিবার স্থানীয় সময় সকালে বিমানবন্দরের দিক থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন রিয়াদের কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরটির জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার ৫.০ ফ্লাইট বিঘ্ন সূচক দেখানো হয়। বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল এবং অন্য কয়েকটির সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রিয়াদজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করে সিভিল ডিফেন্স। স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে পাঠানো বার্তায় সম্ভাব্য বিমান হামলার হুমকির কথা জানিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
সতর্কতা জারির প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার সঙ্গে ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও বিস্ফোরণের কারণ বা সম্ভাব্য হতাহত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সেখানে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে।
হুতিদের সামরিক তৎপরতা ও লোহিত সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। হুতি আন্দোলন ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।
শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই থেকে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হুতিরা সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রিয়াদের বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম কখন পুরোপুরি ফিরবে এবং ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে ।



