নিটওয়্যার কারখানার অর্ডার: জ্বালানি সংকটে ৫৫% নিটওয়্যার কারখানার অর্ডারে ধাক্কা
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে শিপমেন্ট বিলম্ব ও অতিরিক্ত খরচ

ঢাকা: চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের ৫৫ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অর্ডার বাতিল বা কমিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিপমেন্টে বিলম্ব হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। প্রায় ৫৯ শতাংশ কারখানা ব্যাংকঋণ খেলাপির ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও জরিপে উঠে এসেছে।
গত ২১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও অন্যান্য এলাকার বিকেএমইএ সদস্য কারখানার ২০ শতাংশের ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, তারা আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ৮৭ শতাংশ কারখানা শিপমেন্ট বিলম্বের মুখে পড়েছে। সংকটের কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানাকে ক্রেতাদের ছাড় দিতে হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটে ৯০% কারখানা
কারখানাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে বিদ্যুৎ সংকট। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ কারখানা গ্যাস সংকটে পড়েছে এবং ১৪ শতাংশ অন্যান্য সরবরাহ ও পরিচালনাগত সমস্যার কথা জানিয়েছে।
গ্যাসের চাপ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া কারখানাগুলোর হিসাবে, স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কমেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। লোডশেডিংয়ের তথ্য দেওয়া কারখানাগুলোতে আগের সময়ের তুলনায় দৈনিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের গড় সময় প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমেছে উৎপাদন
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে। জরিপ অনুযায়ী, নিটিং উৎপাদন গড়ে ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশ কমেছে। ডাইং উৎপাদন কমেছে ৫১ শতাংশ এবং পোশাক সেলাইয়ের উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ।
বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কারণে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। একই ধরনের সংখ্যক কারখানা শ্রম ও কর্মঘণ্টা অপচয়ের কথাও জানিয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৮৯ শতাংশ কারখানা ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্যাংকঋণ খেলাপির ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। প্রায় ৭ শতাংশ কারখানা পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
ফজলে শামীম এহসান বলেন, “গার্মেন্ট খাত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও আমাদের অনেক কারখানা ভালো করছে, কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার ভালো নীতিগত সহায়তা দিলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারব।”
নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি কারখানা
জরিপে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশ নারায়ণগঞ্জের। গাজীপুরের কারখানা ছিল ২০ শতাংশ, চট্টগ্রামের ১৮ শতাংশ, ঢাকার ১৩ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার প্রায় ৩ শতাংশ।
জ্বালানি সরবরাহে এই সংকট দেশের নিটওয়্যার শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রেতাদের অর্ডার এবং রপ্তানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে বলে জরিপের তথ্য থেকে উঠে এসেছে।


