মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার আহ্বান
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর একদিন আগে সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয় বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ভারতে আটক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
এর একদিন আগে সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ভারতে আটক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।
তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের এই কূটনীতিকের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে জানানো হয়েছে।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ইতিবাচক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের আহ্বান
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন—এমন প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রত্যর্পণ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর।
এ ধরনের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। ফলে বৈঠকে আলোচনার পরপরই প্রত্যর্পণ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে ভারতে আটক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে। হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এ ঘটনায় যেসব ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। প্রত্যর্পণ বা ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, পানি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর করতে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও কূটনৈতিক পর্যায়ে আগ্রহ রয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, সে বিষয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।
দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন দীনেশ ত্রিবেদী
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা সফর এবং পরবর্তী দিল্লি বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত পাঠানো এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্ব পেয়েছে।
সামনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো সেই যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ হতে পারে।
তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কিংবা হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত পাঠানোর মতো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট আইন, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং দুই দেশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠকের ফলাফল নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে তারেক রহমানের সঙ্গে আগের দিনের বৈঠক এবং পরবর্তী দিল্লি সফরকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও কূটনৈতিক আলোচনা আরও বাড়ে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আহ্বানে ভারতের অবস্থান কী হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।



