সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক আজ, বিরোধী দলগুলোর অনুপস্থিতি

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক আজ, বিরোধী দলগুলোর অনুপস্থিতি
জাতীয় সংসদ ভবন / ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিবেদক-ঢাকা, প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আজ রোববার বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবে। জুলাই সনদে সই করা ২৬টি দল ও জোটের নেতাদের এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল বৈঠকে অংশ নেবে না বলে জানা গেছে।

বিশেষ কমিটির সূত্র জানায়, আজকের এই বৈঠকটি কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক। আলোচ্যসূচিতে রয়েছে—জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দল ও জোটগুলোর নেতাদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন নিয়ে মতবিনিময়। প্রতিটি দল ও জোটের সভাপতিসাধারণ সম্পাদক বা তাদের মনোনীত দুইজন প্রতিনিধি এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল কমিটির প্রথম বৈঠক। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল, রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই মতবিনিময় সভা আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে মতামত উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা সরকারি কোনো সংবিধান সংশোধন উদ্যোগে অংশ নিতে রাজি নয়। বিশেষ কমিটিতেও বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। সংসদে প্রতিনিধিত্ববিহীন ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত শরিক দলগুলোও কার্যত সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে। ফলে এসব দলের মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আরও জানায়, দুয়েকটি দলও বৈঠকে অংশ নাও নিতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময় সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা হয়েছিল। বাম ধারার চারটি দল সনদে সই করেনি। সনদে সই করা ২৬টি দল ও জোটের মধ্যে ৮টি এখন ১১–দলীয় ঐক্যের অংশ।

১১–দলীয় ঐক্যের শরিক এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রথম আলোকে বলেন, আমন্ত্রণ পেলেও তারা বৈঠকে যাচ্ছেন না। কারণ, তাদের মতে, গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি, বরং বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে—যা তারা সমর্থন করেন না।

জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত। অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে আদেশ জারি করেছিল। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল।

বিএনপি সরকারে আসার পর সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি বা সদস্যরা শপথও নেননি। গত ১৩ জুলাই সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে বিরোধী দল পাঁচজন সদস্য দিতে না পারায় তারা অংশ নেয়নি—এবং কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কমিটির সূত্র জানায়, সরকারি দল আশা করেছিল, শেষ হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল প্রতিনিধি দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল কমিটিতে নাম দেয়নি। এ অবস্থায় বিশেষ কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করছে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি লংমার্চ কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় আমন্ত্রণের ব্যাপারে নিশ্চিত নন। তবে তার মতে, গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হওয়া সত্ত্বেও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি। প্রচলিত নিয়মে সংবিধান সংশোধন করলেই সংকটের সমাধান হবে না বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ কমিটিতে না থেকে সংস্কার পরিষদ গঠন প্রস্তাবে আলোচনা হলে তাতে অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top